ইনকিলাব সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিদিনই এমন কিছু স্টোরি থাকছে যা আওয়ামী লীগের সমালোচকরা পড়ে মজা পাবেন। ১০ জুলাই পত্রিকাটির প্রথম পাতার চারটি স্টোরি আমরা আলোচনা করতে পারি। পাতার ডানপাশে একেবারে ওপরে ব্যারিস্টার রাজ্জাক ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর ছবি দিয়ে তিন কলামে একটি স্টোরি করেছে। এর শিরোণাম, বিএনপিতে তোলপাড়। শিরোণামের ওপরে লেখা রয়েছে গওহর রিজভী ব্যারিস্টার রাজ্জাকের গোপন বৈঠক।
স্টোরিটি আফজাল বারীর লেখা। বিস্তারিত বিবরণে তিনি লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র দাবিদার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অতিগোপনে অভিযুক্ত জামায়াতের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। আর এতে তারা বিদেশিদের সহায়তা নিচ্ছে। এবার জামায়াতকে ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাস্ট্রদূতের গুলশানের বাসায় জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিন নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতের ‘এই গোপন বৈঠক’ এর খবরে বিএনপিতে তোলপাড় চলছে। শুধু বিএনপিতেই নয় জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও এ বৈঠক নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির আশঙ্কা, এ সমঝোতা মুলত বিএনপিকে বাইরে রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার নীল নকশা। রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর রয়েছে, চাপে ফেলে জাতীয় পার্টিকেও এ পথে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিবেদনে জামায়াত ইসলামীর সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে কিভাবে তারা আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন সময় সমঝোতা করেছে এবং বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার বয়ান তুলে ধরা হয়েছে।
এদিন পত্রিকাটি লিড করেছে, ‘অদম্য বাংলাদেশ’। এই দুই শব্দের বুলেট শিরোণাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর আতিউর রহমানের লেখার সুত্র ধরে এক বিশাল রিপোর্ট করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে সরস তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে কিভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। রিপোর্টের একেবারে শেষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আতিউর রহমান সবসময় রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দেন। সাধারণত ধার্মিক ব্যক্তিরা কথার সময় নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে থাকেন। সরকার বিরোধীতায় টার্ন নেয়া পত্রিকাটি কেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সরস গদ্য লেখেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।
হেফাজত নিয়ে এরশাদের বক্তব্য হাইলাইট করে পাতার মাঝামাঝি এবং নির্বাচন কমিশনারের ধর্মবিষয়ক উন্নাসিকতা নিয়ে যে দুটি রিপোর্ট পত্রিকাটি করেছে এগুলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ ও সমকালের জন্য অপছন্দনীয়। জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেছেন, হেফাজতের কারণেই গাজীপুরে সরকারের পরাজয় ঘটেছে। পত্রিকাগুলো আওয়ামী লীগের পরাজয়ের যে কারণ ব্যাখ্যা করছে তাতে হেফাজত স্থান পাচ্ছে না। একই কারণে পত্রিকাগুলো এ নিউজটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। সিঙ্গেল কলাম অন্য রিপোর্টটির শিরোণাম, ইসির দায়িত্ব কি ভোটারদের ধর্মের ব্যবহার নির্ধারণ করা? এ রিপোর্ট পড়ে মনে হচ্ছে বাম বুদ্ধিজীবীদের লাইনেই হাটছে ইসি সদস্যরা। যাদের সাপোর্ট দিয়ে চলেছে বামপন্থি মিডিয়া। অন্যদিকে ইনকিলাব এসব খবর প্রকাশ করে আলেম ওলামা ও মাদারসার বিশ্বাসভাজন হতে চাচ্ছে।
পত্রিকায় এদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু টিআইবির প্রতিবেদন। বেশিরভাগ পত্রিকা খবরটি লিড করেছে। মিসরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবরও কয়েকটি পত্রিকা হাইলাইট করে যাচ্ছে। এর মধ্যেও লিমনের খবরটি প্রায় সব পত্রিকা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে।
প্রথম আলো টিআইবি রিপোর্টের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে লিমনের খবরটি করেছে। তিন কলাম বক্স আইটেমটির শিরোণামঃ সরকারের সুমতি। মূল খবরটি হল র্যাবের করা দুটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান সারির মিডিয়ার সমালোচনা করা অসঙ্গত হবে না। লিমন ‘পা’ হারিয়ে যতটা গুরুত্ব পেয়েছে। এর সিকিভাগ গুরুত্ব যদি পেত রাজনৈতিক কারণে কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রোষে পড়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকরা, তাহলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এতটা দুরাবস্থা হত না। রাস্তায় গুলি করে যখন নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে তখন পত্রিকা সেগুলো জঙ্গি নাশকতা সৃষ্টিকারি বলে পুলিশ ও রাষ্ট্রের সমান্তরালে চলেছে। ঠিক একইভাবে শাপলা চত্বরে পরিচালিত হত্যালীলাটি গায়েব করা হয়েছে একই কৌশলে। প্রকৃতপক্ষে যা গায়েব করা যায়নি। যার ফলাফল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে।
লিমনের ‘পা’ হারানোকে মানবাধিকারের ইস্যু হিসেবে প্রথম আলোর নেতৃত্বে মিডিয়া যেভাবে হাইলাইট করেছে। এর পেছনে অবশ্য মানবাধিকার কমিশনার মিজানুর রহমানও লেগে ছিলেন। শেষে তিনি সরকারের পক্ষে সরাসরি দালালি করতে গিয়ে ব্লান্ডার করেছেন। হত্যা খুন গুমের পেছনে যদি পত্রিকা একই অবস্থানে থাকত তা সরকারের জন্য ভালো হত। কারণ এর মাধ্যমে সরকার এতটা বেপরোয়া হতে পারতনা। যার ফলে তারা শত শত মানুষকে হত্যা করার সাহস পেত না। প্রকৃতপক্ষে বন্ধুবেশি এসব মিডিয়া আওয়ামী লীগের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে এনেছে।
শাহবাগে এবার কোটা বিরোধী ছাত্ররা জমায়েত হয়েছে। ‘গণজাগরণ’-ই সম্ভবত তাদের পথ দেখিয়েছে। এটিও তরুণ যুব সমাজের একটি দাবি। কোটার কবলে পড়ে মেধাবীদের জন্য চাকুরির সুযোগ একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। শাহবাগ জমায়েত পত্রিকাগুলোর চেনার একটি সুযোগ করে দিল।
‘কোটা’র বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ - শিরোণাম সমকাল বৃহস্পতিবার এটি প্রধান খবর করেছে। পত্রিকাটি ‘গণজাগরণ’ নিয়ে টানা ব্যানার হেডিং করে গিয়েছিল। একবার প্রথম পাতার পুরোটা প্রদীপ জ্বালানোর ছবি দিয়ে পোস্টার করে। তবে শাহবাগে পরিচালিত নতুন এ জমায়েত নিয়ে পত্রিকাটি চার কলামে খবর দিয়েছে। এ নিয়ে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের কাভারেজ এরচেয়েও দুর্বল।
প্রথম আলো অবশ্য এবার শাহবাগ জমায়েতে সৃষ্ট ঢাকা শহরের অভাবনীয় যানজট নিয়ে প্রধান শিরোণাম করেছে। শাহবাগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ‘ফল বিবেচনার সিদ্ধান্ত’ শিরোণামে পিএসসির প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিচে দুই কলামে খবর করেছে।
যানজটের খবরটি অত্যন্ত রগরগে। কিভাবে ঢাকার মানুষ শাহবাগের যানজটের ফলে নাকাল হয়েছেন তার যেন লাইভ দৃশ্য। খবরের চতুর্থ প্যারায় পত্রিকাটি লিখেছে, ‘এ কঠিন দুর্ভোগের কারণ সম্পর্কে এনামুল হক কিছুই জানতেন না। পরে লোকমুখে শুনেছেন, শাহবাগে পথ অবরোধ করেছেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। বিসিএস পরীক্ষার ফল কী যেন সমস্যা হয়েছে তাই নিয়ে। বিরক্তির সঙ্গে বললেন, এটা কোনো কথা হল! যার যখন ইচ্ছা পথ আটকে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে এমন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে ঠেলে দেবে! আর কর্তৃপক্ষই বা কী করছে? মনে হয় কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেখার কেউ নেই।’
মাসের পর মাস যখন শাহবাগ আটকে রেখেছিল পত্রিকাটি এ স্টোরিটি একবারও করেনি। তখনও পথচারিদের ঠিক একই ধরনের আক্ষেপ ছিল। ডেইলি স্টার বিশাল করে যানজটের একটি ছবি দিয়েছে। তার পাশে সিঙ্গেল কলাম শিরোণামঃ ওয়ান ডেমো ব্রিংস সিটি টু অ্যা হল্ট। কিসের ডেমনস্ট্রেশন, সেটি কাদের তা জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি পত্রিকাটি। বিএনপি জামায়াতের সভাসমাবেশ হলে যানজট নিয়ে যেমন সংবাদ করে ঠিক সে ধরনের একটি সংবাদ করে বসেছে স্টার। এ দুটি পত্রিকা ‘গণজাগরণের’ নামে মানুষের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছিল তা নিয়ে একটি মন্তব্য না করলেও প্রতিদিন সেটিকে বিশাল কাভারেজ দিয়ে গিয়েছিল। কালের কণ্ঠও প্রায় একই ধরনের কাভারেজ। তারা দুই কলামে শিরোণাম করেছেঃ এক অবরোধ অচল ঢাকা।
নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, নিউএইজ ও ইত্তেফাক এটিকে একটি আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিনের প্রধান খবর করেছে। তবে কেউ এটি নিয়ে ব্যানার হেডলাইন করেনি। নয়া দিগন্ত, মানবজমিন শিরোণাম করেছে যথাক্রমে, চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ; কোটা বাতিলের দাবিতে অনড় পরীক্ষার্থীরা। নয়া দিগন্ত একটু আগ বাড়িয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আরো একটি সংবাদ করেছে। শিরোণাম করেছে, চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংবিধান পরিপন্থি।
কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোণাম করেছে, টিআইবির কারসাজি? এরমাধ্যমে পত্রিকাটি এ প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ শাখার দুই নাম্বারি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাড় করানোতে পত্রিকাটি নিজ উদ্যোগে এমন প্রতিবেদন করেছে। অর্থ্যাৎ তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে দাড়িয়ে টিআইবির বিতর্কিত অবস্থান ফলাও করার চেষ্টা করছে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন পত্রিকাকে একটু বিব্রত অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধ (প্রচলিত আবেগ) বনাম মেধাবীদের দাবি কোনটির পক্ষে যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এরমধ্যে আন্দোলনকারিরা বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়েছে। দুটি পত্রিকাই ‘গণজাগরণের’ নামে মাসের পর মাস শাহবাগ মোড় দখল করে রাখার সময় একদিনও যানজট নিয়ে খবর দেয়নি। কিন্তু কোটাবিরোধীরা যখন একদিনের জন্য শাহবাগ দখল করল ঠিক ওইদিনই দুটি পত্রিকা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ যানজট নিয়ে বিশাল করে রিপোর্ট করে।
প্রথম আলো অবশ্য পরের দিন ঘুরে দাড়িয়েছে। আন্দোলনকারি এক ছাত্রকে পিটানোর একটি ছবি প্রথম পাতায় চার কলামে দিয়েছে। হামলাকারিরা যে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসি সেটা উল্লেখ করেনি। তিন কলাম শিরোণামঃ কোটা বাতিলের আন্দোলন রূপ নিল সহিংসতায়। এই খবরে পত্রিকাটি আন্দোলনকারিদের ওপর হামলার চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্দোলনকারিরা কি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। পুলিশের হামলার এক পর্যায়ে ছাত্ররা ভিসি ও প্রক্টরের অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পাশে এক কলাম একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনের শিরোণামঃ জটিলতার কারণে কোটা পদ্ধতি বৈষম্যমূলক।
পত্রিকাটি ৩৪ তম বিসিএস নিয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখেছে এদিন। এটি আন্দোলনের প্রসঙ্গকে লো প্রোফাইলে রেখে শুধু ৩৪ তম বিসিএসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর পাশেই সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদারের একটি কলাম ছেপেছে কোটা নিয়ে। ওই কলামে মজুমদার সাহেব বাংলাদেশে কোটা-বৈষম্যের বিষয়টি খোলাসা করেছেন। এটি যে প্রশাসনকে মেধাশূন্য করেছে সেটা স্বীকার করেছেন। কোটার ওপর অধিক জোরের কারণে মেধাবীরা যে বঞ্চিত হচ্ছেন তা তিনি বলেছেন।
ডেইলি স্টার এদিন ইস্যুটিকে প্রধান শিরোণাম করেছেঃ ডিইউ ক্যাম্পাস টার্নস ইনটু ব্যাটেলফিল্ড। আন্দোলনকারিকে পেটানোর প্রথম আলোর ওই ছবিটি স্টারও দিয়েছে। কারা পেটাচ্ছে প্রথম আলো সেটা উল্লেখ না করলেও স্টার বলেছে ছাত্রলীগ। তবে কাকে পেটাচ্ছে তারও বিশেষ পরিচয় পত্রিকটি প্রকাশ করেছে। ক্যাপশনে পত্রিকাটি লিখেছে শিবির সন্দেহে তাকে পেটানো হচ্ছে। আরো একটি ছবি পাশে ছোট করে দেয়া হয়েছে। লেখা রয়েছে ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট এর একটি শিল্প কর্মে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
যুগান্তর শিরোণাম করেছে, ছড়িয়ে গেল কোটার আন্দোলন। নয়া দিগন্ত শিরোণাম করেছে, ঢাবি এলাকা রণক্ষেত্র। মানবজমিন শিরোনাম করেছে, অ্যাকশনে ছাত্রলীগ। তিনটি পত্রিকাই আন্দোলনকারি ছাত্রটিকে পেটানোর ছবি বড় করে দিয়েছে। পেটানোর কাজটি যে ছাত্রলীগ করেছে সেটা প্রকাশ করতে পত্রিকা তিনটি কোনো বিব্রতবোধ করেনি। মারখাওয়া ছাত্রটিও যে কেবল একজন আন্দোলনকারি সেটা নির্দিধায় তারা বলেছে। আওয়ামী পন্থি পত্রিকা সমকালও এই তিনটি পত্রিকার মতই খবর করেছে। এ পত্রিকাটি কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রথম আলো ডেইলি স্টারের নীতি গ্রহণ না করায় একটু অবাকই হতে হচ্ছে।
স্টোরিটি আফজাল বারীর লেখা। বিস্তারিত বিবরণে তিনি লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র দাবিদার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অতিগোপনে অভিযুক্ত জামায়াতের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছে। আর এতে তারা বিদেশিদের সহায়তা নিচ্ছে। এবার জামায়াতকে ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাস্ট্রদূতের গুলশানের বাসায় জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিন নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতের ‘এই গোপন বৈঠক’ এর খবরে বিএনপিতে তোলপাড় চলছে। শুধু বিএনপিতেই নয় জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও এ বৈঠক নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির আশঙ্কা, এ সমঝোতা মুলত বিএনপিকে বাইরে রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার নীল নকশা। রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর রয়েছে, চাপে ফেলে জাতীয় পার্টিকেও এ পথে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিবেদনে জামায়াত ইসলামীর সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে কিভাবে তারা আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন সময় সমঝোতা করেছে এবং বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার বয়ান তুলে ধরা হয়েছে।
এদিন পত্রিকাটি লিড করেছে, ‘অদম্য বাংলাদেশ’। এই দুই শব্দের বুলেট শিরোণাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর আতিউর রহমানের লেখার সুত্র ধরে এক বিশাল রিপোর্ট করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে সরস তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে কিভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। রিপোর্টের একেবারে শেষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আতিউর রহমান সবসময় রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দেন। সাধারণত ধার্মিক ব্যক্তিরা কথার সময় নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে থাকেন। সরকার বিরোধীতায় টার্ন নেয়া পত্রিকাটি কেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সরস গদ্য লেখেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।
হেফাজত নিয়ে এরশাদের বক্তব্য হাইলাইট করে পাতার মাঝামাঝি এবং নির্বাচন কমিশনারের ধর্মবিষয়ক উন্নাসিকতা নিয়ে যে দুটি রিপোর্ট পত্রিকাটি করেছে এগুলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ ও সমকালের জন্য অপছন্দনীয়। জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেছেন, হেফাজতের কারণেই গাজীপুরে সরকারের পরাজয় ঘটেছে। পত্রিকাগুলো আওয়ামী লীগের পরাজয়ের যে কারণ ব্যাখ্যা করছে তাতে হেফাজত স্থান পাচ্ছে না। একই কারণে পত্রিকাগুলো এ নিউজটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। সিঙ্গেল কলাম অন্য রিপোর্টটির শিরোণাম, ইসির দায়িত্ব কি ভোটারদের ধর্মের ব্যবহার নির্ধারণ করা? এ রিপোর্ট পড়ে মনে হচ্ছে বাম বুদ্ধিজীবীদের লাইনেই হাটছে ইসি সদস্যরা। যাদের সাপোর্ট দিয়ে চলেছে বামপন্থি মিডিয়া। অন্যদিকে ইনকিলাব এসব খবর প্রকাশ করে আলেম ওলামা ও মাদারসার বিশ্বাসভাজন হতে চাচ্ছে।
পত্রিকায় এদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু টিআইবির প্রতিবেদন। বেশিরভাগ পত্রিকা খবরটি লিড করেছে। মিসরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবরও কয়েকটি পত্রিকা হাইলাইট করে যাচ্ছে। এর মধ্যেও লিমনের খবরটি প্রায় সব পত্রিকা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে।
প্রথম আলো টিআইবি রিপোর্টের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে লিমনের খবরটি করেছে। তিন কলাম বক্স আইটেমটির শিরোণামঃ সরকারের সুমতি। মূল খবরটি হল র্যাবের করা দুটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান সারির মিডিয়ার সমালোচনা করা অসঙ্গত হবে না। লিমন ‘পা’ হারিয়ে যতটা গুরুত্ব পেয়েছে। এর সিকিভাগ গুরুত্ব যদি পেত রাজনৈতিক কারণে কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রোষে পড়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকরা, তাহলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এতটা দুরাবস্থা হত না। রাস্তায় গুলি করে যখন নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে তখন পত্রিকা সেগুলো জঙ্গি নাশকতা সৃষ্টিকারি বলে পুলিশ ও রাষ্ট্রের সমান্তরালে চলেছে। ঠিক একইভাবে শাপলা চত্বরে পরিচালিত হত্যালীলাটি গায়েব করা হয়েছে একই কৌশলে। প্রকৃতপক্ষে যা গায়েব করা যায়নি। যার ফলাফল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে।
লিমনের ‘পা’ হারানোকে মানবাধিকারের ইস্যু হিসেবে প্রথম আলোর নেতৃত্বে মিডিয়া যেভাবে হাইলাইট করেছে। এর পেছনে অবশ্য মানবাধিকার কমিশনার মিজানুর রহমানও লেগে ছিলেন। শেষে তিনি সরকারের পক্ষে সরাসরি দালালি করতে গিয়ে ব্লান্ডার করেছেন। হত্যা খুন গুমের পেছনে যদি পত্রিকা একই অবস্থানে থাকত তা সরকারের জন্য ভালো হত। কারণ এর মাধ্যমে সরকার এতটা বেপরোয়া হতে পারতনা। যার ফলে তারা শত শত মানুষকে হত্যা করার সাহস পেত না। প্রকৃতপক্ষে বন্ধুবেশি এসব মিডিয়া আওয়ামী লীগের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে এনেছে।
শাহবাগে এবার কোটা বিরোধী ছাত্ররা জমায়েত হয়েছে। ‘গণজাগরণ’-ই সম্ভবত তাদের পথ দেখিয়েছে। এটিও তরুণ যুব সমাজের একটি দাবি। কোটার কবলে পড়ে মেধাবীদের জন্য চাকুরির সুযোগ একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। শাহবাগ জমায়েত পত্রিকাগুলোর চেনার একটি সুযোগ করে দিল।
‘কোটা’র বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ - শিরোণাম সমকাল বৃহস্পতিবার এটি প্রধান খবর করেছে। পত্রিকাটি ‘গণজাগরণ’ নিয়ে টানা ব্যানার হেডিং করে গিয়েছিল। একবার প্রথম পাতার পুরোটা প্রদীপ জ্বালানোর ছবি দিয়ে পোস্টার করে। তবে শাহবাগে পরিচালিত নতুন এ জমায়েত নিয়ে পত্রিকাটি চার কলামে খবর দিয়েছে। এ নিয়ে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের কাভারেজ এরচেয়েও দুর্বল।
প্রথম আলো অবশ্য এবার শাহবাগ জমায়েতে সৃষ্ট ঢাকা শহরের অভাবনীয় যানজট নিয়ে প্রধান শিরোণাম করেছে। শাহবাগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ বিক্ষোভের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ‘ফল বিবেচনার সিদ্ধান্ত’ শিরোণামে পিএসসির প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিচে দুই কলামে খবর করেছে।
যানজটের খবরটি অত্যন্ত রগরগে। কিভাবে ঢাকার মানুষ শাহবাগের যানজটের ফলে নাকাল হয়েছেন তার যেন লাইভ দৃশ্য। খবরের চতুর্থ প্যারায় পত্রিকাটি লিখেছে, ‘এ কঠিন দুর্ভোগের কারণ সম্পর্কে এনামুল হক কিছুই জানতেন না। পরে লোকমুখে শুনেছেন, শাহবাগে পথ অবরোধ করেছেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। বিসিএস পরীক্ষার ফল কী যেন সমস্যা হয়েছে তাই নিয়ে। বিরক্তির সঙ্গে বললেন, এটা কোনো কথা হল! যার যখন ইচ্ছা পথ আটকে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে এমন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে ঠেলে দেবে! আর কর্তৃপক্ষই বা কী করছে? মনে হয় কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেখার কেউ নেই।’
মাসের পর মাস যখন শাহবাগ আটকে রেখেছিল পত্রিকাটি এ স্টোরিটি একবারও করেনি। তখনও পথচারিদের ঠিক একই ধরনের আক্ষেপ ছিল। ডেইলি স্টার বিশাল করে যানজটের একটি ছবি দিয়েছে। তার পাশে সিঙ্গেল কলাম শিরোণামঃ ওয়ান ডেমো ব্রিংস সিটি টু অ্যা হল্ট। কিসের ডেমনস্ট্রেশন, সেটি কাদের তা জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি পত্রিকাটি। বিএনপি জামায়াতের সভাসমাবেশ হলে যানজট নিয়ে যেমন সংবাদ করে ঠিক সে ধরনের একটি সংবাদ করে বসেছে স্টার। এ দুটি পত্রিকা ‘গণজাগরণের’ নামে মানুষের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছিল তা নিয়ে একটি মন্তব্য না করলেও প্রতিদিন সেটিকে বিশাল কাভারেজ দিয়ে গিয়েছিল। কালের কণ্ঠও প্রায় একই ধরনের কাভারেজ। তারা দুই কলামে শিরোণাম করেছেঃ এক অবরোধ অচল ঢাকা।
নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, নিউএইজ ও ইত্তেফাক এটিকে একটি আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিনের প্রধান খবর করেছে। তবে কেউ এটি নিয়ে ব্যানার হেডলাইন করেনি। নয়া দিগন্ত, মানবজমিন শিরোণাম করেছে যথাক্রমে, চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ; কোটা বাতিলের দাবিতে অনড় পরীক্ষার্থীরা। নয়া দিগন্ত একটু আগ বাড়িয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আরো একটি সংবাদ করেছে। শিরোণাম করেছে, চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংবিধান পরিপন্থি।
কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোণাম করেছে, টিআইবির কারসাজি? এরমাধ্যমে পত্রিকাটি এ প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ শাখার দুই নাম্বারি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাড় করানোতে পত্রিকাটি নিজ উদ্যোগে এমন প্রতিবেদন করেছে। অর্থ্যাৎ তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে দাড়িয়ে টিআইবির বিতর্কিত অবস্থান ফলাও করার চেষ্টা করছে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন পত্রিকাকে একটু বিব্রত অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধ (প্রচলিত আবেগ) বনাম মেধাবীদের দাবি কোনটির পক্ষে যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এরমধ্যে আন্দোলনকারিরা বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়েছে। দুটি পত্রিকাই ‘গণজাগরণের’ নামে মাসের পর মাস শাহবাগ মোড় দখল করে রাখার সময় একদিনও যানজট নিয়ে খবর দেয়নি। কিন্তু কোটাবিরোধীরা যখন একদিনের জন্য শাহবাগ দখল করল ঠিক ওইদিনই দুটি পত্রিকা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ যানজট নিয়ে বিশাল করে রিপোর্ট করে।
প্রথম আলো অবশ্য পরের দিন ঘুরে দাড়িয়েছে। আন্দোলনকারি এক ছাত্রকে পিটানোর একটি ছবি প্রথম পাতায় চার কলামে দিয়েছে। হামলাকারিরা যে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসি সেটা উল্লেখ করেনি। তিন কলাম শিরোণামঃ কোটা বাতিলের আন্দোলন রূপ নিল সহিংসতায়। এই খবরে পত্রিকাটি আন্দোলনকারিদের ওপর হামলার চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্দোলনকারিরা কি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। পুলিশের হামলার এক পর্যায়ে ছাত্ররা ভিসি ও প্রক্টরের অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পাশে এক কলাম একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনের শিরোণামঃ জটিলতার কারণে কোটা পদ্ধতি বৈষম্যমূলক।
পত্রিকাটি ৩৪ তম বিসিএস নিয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখেছে এদিন। এটি আন্দোলনের প্রসঙ্গকে লো প্রোফাইলে রেখে শুধু ৩৪ তম বিসিএসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর পাশেই সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদারের একটি কলাম ছেপেছে কোটা নিয়ে। ওই কলামে মজুমদার সাহেব বাংলাদেশে কোটা-বৈষম্যের বিষয়টি খোলাসা করেছেন। এটি যে প্রশাসনকে মেধাশূন্য করেছে সেটা স্বীকার করেছেন। কোটার ওপর অধিক জোরের কারণে মেধাবীরা যে বঞ্চিত হচ্ছেন তা তিনি বলেছেন।
ডেইলি স্টার এদিন ইস্যুটিকে প্রধান শিরোণাম করেছেঃ ডিইউ ক্যাম্পাস টার্নস ইনটু ব্যাটেলফিল্ড। আন্দোলনকারিকে পেটানোর প্রথম আলোর ওই ছবিটি স্টারও দিয়েছে। কারা পেটাচ্ছে প্রথম আলো সেটা উল্লেখ না করলেও স্টার বলেছে ছাত্রলীগ। তবে কাকে পেটাচ্ছে তারও বিশেষ পরিচয় পত্রিকটি প্রকাশ করেছে। ক্যাপশনে পত্রিকাটি লিখেছে শিবির সন্দেহে তাকে পেটানো হচ্ছে। আরো একটি ছবি পাশে ছোট করে দেয়া হয়েছে। লেখা রয়েছে ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট এর একটি শিল্প কর্মে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
যুগান্তর শিরোণাম করেছে, ছড়িয়ে গেল কোটার আন্দোলন। নয়া দিগন্ত শিরোণাম করেছে, ঢাবি এলাকা রণক্ষেত্র। মানবজমিন শিরোনাম করেছে, অ্যাকশনে ছাত্রলীগ। তিনটি পত্রিকাই আন্দোলনকারি ছাত্রটিকে পেটানোর ছবি বড় করে দিয়েছে। পেটানোর কাজটি যে ছাত্রলীগ করেছে সেটা প্রকাশ করতে পত্রিকা তিনটি কোনো বিব্রতবোধ করেনি। মারখাওয়া ছাত্রটিও যে কেবল একজন আন্দোলনকারি সেটা নির্দিধায় তারা বলেছে। আওয়ামী পন্থি পত্রিকা সমকালও এই তিনটি পত্রিকার মতই খবর করেছে। এ পত্রিকাটি কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রথম আলো ডেইলি স্টারের নীতি গ্রহণ না করায় একটু অবাকই হতে হচ্ছে।
মিডিয়া রিভিউ
বিডিটুডে.নেট

Post a Comment