উপমহাদেশের জনপ্রিয়তম খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেট বলতে পাগল বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের জনগণ। শতাব্দী পুরোনো এই খেলা দর্শকদের উপহার দিয়েছে আনন্দ-বেদনার হাজারো মুহুর্ত। সেই সাথে দর্শকদের সুযোগ করে দিয়েছে বছরের পর বছর ধরে গল্প করার মতো নানা রেকর্ড। সে রেকর্ডের কিছু আছে গর্বের, কিছু আছে লজ্জার। আবার কিছু আছে যা কেবলই আনন্দের, মজার। এমনই মজার দশটি ক্রিকেট রেকর্ড নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।
১. শূন্য নেই পুরো ক্যারিয়ারে!
কোনো খেলোয়াড়ই চান না শূন্য রানে আউট হতে। প্রিয় ক্রিকেটার শূন্য রানে আউট হোক এমন প্রত্যাশা করেন না কোনো সমর্থকও। তারপরও শূন্যের ‘যন্ত্রনা’ কিন্তু কমেনা। বরং ক্রিকেটার- সমর্থক উভয়ই শূন্যের ভয়ে থাকেন সব সময়। শূন্য রানে আউট হলে ধসে যেতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। ফুঁসে উঠতে পারে সমর্থকদের ক্ষোভ। তবুও শূন্য হয়। এতে দল থেকে বাদ পড়ে যান কেউ। কেউ আবার সমর্থন করাই বাদ দিয়ে দেন প্রিয় ক্রিকেটারকে।
কিন্তু এমন ঘটনাও ক্রিকেটে আছে যে, পুরো ক্যারিয়ারই কোনো শূন্যই নেই!
একশরও বেশি ইনিংসে ব্যাট করে একবারও শূন্য রানে আউট হননি এমন মাত্র একজন ক্রিকেটার আছেন। তিনি কেপলার ওয়েলস। কেপলার ১০৫টি ইনিংস খেলেছেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে। এর কোনোটিতেই শূন্য রানে আউট হননি তিনি।
কেপলার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। তবে পরে তিনি সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক হন। এ দেশের হয়েই ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানেন তিনি।
কেপলারের পুরো ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চেয়ে বেশি সময় শূন্যবিহীন থাকার আশ্চর্য রেকর্ডও রয়েছে! এক দুই করে একেবারে ১২০ ইনিংস পর্যন্ত শূন্যবিহীন ছিলেন এক ক্রিকেটার। ১৯৯৯ সালের ২৯ আগস্ট থেকে ২০০৪ এর ৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় শূন্যবিহীন থেকে এই রেকর্ড করেন তিনি। বিরল রেকর্ডের অধিকারী হলেন ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়।
৩.শূন্য আর শূন্য!
শূন্যের সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত রেকর্ড এটি। পুরো ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশিবার শূন্য “পেয়েছেন” কে? উত্তরটি জানার আগে জেনে নিন। এই রেকর্ডটি যার অধীনে তিনি ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। ‘মাতারা হারিকেন’ নামে বিখ্যাত ছিলেন সেই ক্রিকেটার। পাঠক, নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন! হ্যা, এই ‘বাজে’ রেকর্ডটির মালিক সনাথ জয়সুরিয়া! ৪৩৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৪ বার কোনো রান না করেই ফিরে গেছেন ‘মাতারা হারিকেন’।
শূন্যের সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত রেকর্ড এটি। পুরো ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশিবার শূন্য “পেয়েছেন” কে? উত্তরটি জানার আগে জেনে নিন। এই রেকর্ডটি যার অধীনে তিনি ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। ‘মাতারা হারিকেন’ নামে বিখ্যাত ছিলেন সেই ক্রিকেটার। পাঠক, নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন! হ্যা, এই ‘বাজে’ রেকর্ডটির মালিক সনাথ জয়সুরিয়া! ৪৩৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৪ বার কোনো রান না করেই ফিরে গেছেন ‘মাতারা হারিকেন’।
বাংলাদেশে এই রেকর্ডের মালিক দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ১১১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৮ বার শূন্য রান ‘করেছেন’ তিনি!
ক্রিকেটের অনাকাঙ্খিত রেকর্ডগুলোর ‘সেরা’ এটি! চেষ্টা করলে হয়তো অনেক রেকর্ড অনেকে নতুন করে গড়তে পারবেন। কিন্তু এই রেকর্ড মনে হয় চেষ্টা করেও করা সম্ভব না! অবশ্য কেউ চেষ্টা আসলেই করবেন কিনা, সেটাও দেখার বিষয়!
ওয়ানডে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি টানা ৪ বার শূন্য রানের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার অগাস্টিন ল্যুরেন্সলজির। অগাস্টিন সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন ১৯৯৩ সালে। তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে পরপর চার ইনিংসে শূন্যরানে আউট হোন। অগাস্টিনের সাথে এই রেকর্ডে ভাগ আছে আরো তিনজনের! তারা হলেন লঙ্কান ক্রিকেটার প্রমদ্ম বিক্রমসিংহে, জিম্বাবুয়্যান হেনরি ওলোঙ্গা এবং ইংলিশ ক্রিকেটার গ্রেইগ হোয়াইট। তবে সবার আগে ‘কৃতিত্ব’ গড়েন অগাস্টিনই।
৫. সবচেয়ে বেশি বলের ইনিংস (ব্যক্তিগত)
শূন্য রান ‘করার’ জন্য একটি বলই যথেষ্ট! একটা মাত্র বলেই ব্যাটসম্যানের নামের পাশে শূন্য বসে যেতে পারে। এরপরও কেউ কেউ আছেন যারা বলের পর বল খেলে গেছেন। ওয়ানডে ম্যাচে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডটি একজন কিউই ক্রিকেটারের। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র ২০তম ম্যাচে রেকর্ড গড়েন তিনি। দিনটি ছিলো ১৯৭৫ সালের ৭ ই জুন। এদিন তিনি ২০১ বল খেলে ১৭১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন। ওই ক্রিকেটার গ্লেইন টার্নার।
টার্নারের পর আর কেউ এক ওয়ানডে ইনিংসে দু’শ বা এর বেশি বল খেলতে পারেননি।
বাংলাদেশের হয়ে এক ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড শাহরিয়ার নাফীসের। তিনি ১৬১ বলে ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৬ এর ১৩ অক্টোবর।
৬. এতো এক্সট্রা!
এক্সট্রা রান ক্রিকেটের বহুল আলোচিত একটি বিষয়। কিছু এক্সট্রা রানের কারণেই ম্যাচ হেরে যাওয়া- জিতে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। ইনিংসে সবচেয়ে বেশি এক্সট্রা রান দেয়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১৯৮৯ সালের ৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের সাথে এক ওয়ানডে ম্যাচে ৫৯ রান এক্সট্রা ‘দেয়’ তারা। এই এক্সট্রা রান সেদিন পাকিস্তানের ইনিংসে ছিলো তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। প্রথম সর্বোচ্চ ৭৫ রান ছিলো আমের মালিক এর। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ রান ছিলো ইমরান খানের। ম্যাচটিতে ৫৫ রানে হেরে যায় ক্যারিবিয়নরা। ম্যাচ শেষে এক্সট্রা রান দেওয়া নিয়ে বোলার-ফিল্ডারদের কী বলেছিলেন তৎকালীন ক্যারিবিয়ন অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডস তা অবশ্য জানা যায়নি!
৭. এক্সট্রাই সর্বোচ্চ!
দুই যুগেরও বেশি সময় আগের ঘটনা। ইতিহাসের মাত্র ১৮০ নম্বর ওয়ানডে ম্যাচ সেটি। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৯ নয় উইকেট হারিয়ে রান করে ১৯১। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে মি. এক্সট্রার ‘ব্যাট’ থেকে!
এরপরও অনেকবার এক্সট্রা রানই ইনিংসের সর্বোচ্চ হয়েছে। তবে এটিই প্রথম।
ব্যাটসম্যানদের জন্য এরচেয়ে যন্ত্রণার আর কিছু আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। প্রতিটি ব্যাটসম্যানেরই স্বপ্ন থাকে যতো বেশি সম্ভব তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছার। তো সেই ম্যাজিক ফিগারের এতো কাছে গিয়ে যদি থমকে দাঁড়াতে হয়! ওয়ানডে ইতিহাসে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকার ‘স্বাদ’ পেয়েছেন ১২ জন ক্রিকেটার! সর্ব প্রথম এই স্বাদ আস্বাদন করেন কিউই ক্রিকেটার ব্রুস এড্রিয়ান ইজার। ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী এই ‘ঘটনা’ ঘটান তিনি।
সবশেষ এই ৯৯ অপরাজিত থাকার নজির স্থাপিত হয় স্কটিশ ক্যালাম ম্যাকলিউডের মাধ্যমে। ২০১২ সালের ১১ জুলাই কানাডার সাথে এই ‘দূরাবস্থায়’ পড়েন তিনি!
৯. নড়বড়ে নব্বইয়ে সবচেয়ে বেশিবার আউট কে?
এই ‘দূর্ভাগা’ কে জানেন? আর কেউ না; ক্রিকেট খেলাটাকেই তিনি নিজ কাঁধে নিয়ে বয়ে চলেছেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। তিনি শচীন টেন্ডুলকার! ৪৬৩ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ‘মাত্র’ ১৮ বার নব্বইয়ের ঘরে আটকে গেছেন তিনি। ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের প্রায় সব ঈর্ষনীয় রেকর্ডের মালিক ‘লিটল মাস্টার’ এর এই রেকর্ডেই প্রমাণ ক্রিকেট কতোটা রহস্যময় খেলা!
৯৯ রানে আউট, এমন ঘটনা ঘটেছে ২২ বার। একজনের বেলায় আবার এই ঘটনা ঘটেছে তিন বার! তিনি কে তা পরে বলছি, তার আগে বলি প্রথমবার কে এই দূর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন। ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৯৯ রানে ‘কুপোকাত’ হন ইংলিশ ক্রিকেটার জিওফ বয়কট। তার উইকেটটি নিয়েছিলেন বিখ্যাত অসি পেসার ডেনিস লিলি। ৯৯ রানে ২২ বার আউট হবার ‘মালিক’ শচীন টেন্ডুলকার।
Post a Comment